নবম-দশম শ্রেণি ICT ২য় অধ্যায়

দ্বিতীয় অধ্যায়: কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ ও সাইবার নিরাপত্তা

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রায় প্রত্যেকেই ডেস্কটপ, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট কম্পিউটার, বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ডিভাইস, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ সাইট ইত্যাদি ব্যবহার করছে। এসব আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারে আইসিটি যন্ত্রের নিরাপত্তার সাথে সাথে বাক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উপাত্ত ও সফটওয়্যার নিরাপত্তায় ব্যবহার করি পাসওয়ার্ড। এরপরেও নানাভাবে আইসিটি ডিভাইস ও ব্যক্তির তথ্য, উপাত্তের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঝুঁকি কমানো যায়।

কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ ও এর গুরুত্ব

কম্পিউটার হচ্ছে কিছু ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ (হার্ডওয়‍্যার) ও সফটওয়‍্যারের সমন্বিত রূপ। সুতরাং এর থেকে ভালো সেবা (সার্ভিস) পেতে হলে একে অবশ্যই পরিচর্যা করতে হবে। বাইরের বিভিন্ন নিয়ামক যেমন: আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, বিদ্যুৎক্ষেত্র, চুম্বকক্ষেত্র, ধূলিকণা, ধোঁয়া, পানি ইত্যাদির প্রভাব থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি এর মধ্যে থাকা অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারও আপডেটেড রাখতে হবে। কাজেই কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ বলতে কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করে ভালো অবস্থায় রাখার প্রচেষ্টাকে বুঝায়। কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ দুই প্রকারের হতে পারে। যথা-

প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ (Preventive Maintenance): কম্পিউটারের ফল্ট (fault) বা সমস্যাতৈরি হওয়ার পূর্বেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়াকে প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ বলা হয়। ব্যবহারকারী নিজে নিজেই এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন। যেমন-ভাইরাস স্ক্যান, ডিস্ক ক্লিন, ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্টেশন, সফটওয়‍্যার আপডেট ইত্যাদি।

সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ (Corrective Maintenance): কম্পিউটারের ফল্ট বা সমস্যা তৈরিহওয়ার পর তা মেরামত বা পরিবর্তন করে কম্পিউটারকে কর্মক্ষম করাকে সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ বলা হয়। সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাধারণত কম্পিউটার টেকনিশিয়ানের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, কম্পিউটারের আশেপাশে কোনো ধাতব পদার্থ বা চুম্বক জাতীয় পদার্থ রাখা যাবে না। এছাড়া ইলেকট্রিক শক থেকে রক্ষা পাবার জন্য অবশ্যই কম্পিউটারের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থায় আর্থিং থাকা উচিত।

কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব

রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে কম্পিউটারের গতি ও কার্যক্ষমতা ধরে রাখা যায়। এটি যন্ত্রের স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং ধীরগতির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। সঠিক পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কম্পিউটার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব অনেক বেশি।

সফটওয়‍্যার ইনস্টলেশন ও আনইনস্টলেশন

আইসিটি যন্ত্রগুলো সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হলে সফটওয়ারটির সফট বা ডিজিটাল কপি প্রয়োজন হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফটওয়্যারগুলোর সাথে Auto run নামে একটি প্রোগ্রাম সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। কম্পিউটারে সিডি, ডিভিডি বা পেনড্রাইভ প্রবেশ করালে Auto run প্রোগ্রামটি সচল হয়ে যায় এবং সফটওয়্যারটি set up করার অনুমতি চায়। অনুমতি প্রদান করার পর পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করলেই সফটওয়্যারটি যন্ত্রে ইনস্টল হয়ে যাবে। আনইনস্টল করতেও অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার আমাদের সাহায্য করে থাকে। প্রায় সব অপারেটিং সিস্টেমের কাজের ধরন একই। তবে এন্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোনগুলো থেকে সফটওয়্যার আনইনস্টল করা খুবই সহজ। সেটিংস থেকে অ্যাপ্লিকেশন সিলেক্ট করে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারটিতে টাচ করলে পর্দায় একটি মেনু আসবে। সেখানে আনইনস্টল লেখা জায়গায় টাচ করার পর সফটওয়্যারটি আনইনস্টল হয়ে যাবে।

আনইনস্টল ও ডিলিটের মধ্যে পার্থক্য

পার্থক্যআনইনস্টল (Uninstall)ডিলিট (Delete)
সংজ্ঞা ও কার্যকারিতাসফটওয়্যার আনইনস্টল করা মানে কোনো সফটওয়্যারকে কম্পিউটার বা যন্ত্র থেকে প্রায় মুছে ফেলা।সফটওয়্যার ডিলিট করার অর্থ হলো সফটওয়্যারকে কম্পিউটার বা ICT যন্ত্র থেকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা।
মেমোরি ও রেজিস্ট্রি ফাইলআনইনস্টল করার পর সফটওয়্যার মেমোরি খালি করে কিন্তু OS (Operating System) এর রেজিস্ট্রি ফাইলে থেকে যেতে পারে।ডিলিট করা হলে সফটওয়্যার মেমোরি এবং রেজিস্ট্রি ফাইল থেকে সম্পূর্ণরূপে মুছে যায়।

তথ্যের নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকি

বর্তমান সময়ে তথ্য মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তথ্যের প্রবেশাধিকারের বিবেচনায় উন্মুক্ত তথ্য ও গোপনীয় তথ্য নামে তথ্যের দুটি প্রকারভেদ রয়েছে। উন্মুক্ত তথ্যে সকলের অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যে কেউ শেয়ার করতে পারে। যেমন: সংবাদ, প্রবন্ধ, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের প্রেস রিলিজ ইত্যাদি। অন্যদিকে, গোপনীয় তথ্য অনুমোদিত ব্যক্তি বা সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা দ্বারা সুরক্ষিত। যেমন: বাণিজ্যিক চুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি। অনুমতি ছাড়া গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে অথবা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা লাগতে পারে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি বলতে তথ্য যোগাযোগ, হিসাব-নিকাশ ও অটোমেশনের মতো কাজগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা ডিভাইস ও সিস্টেমকে বোঝায় যা বাইনারি আকারে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং প্রেরণ করতে পারে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই প্রসারের ফলে, বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের মাধ্যমে তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। সাইবার জগৎ হলো একটি ডিজিটাল স্থান যেখানে মানুষ একে অপরের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে এবং তথ্য পেতে পারে। এটি বাহ্যিক জগতের সমান্তরাল এমন একটি জগৎ যা ইন্টারনেট, ডেটা এবং কোড দ্বারা গঠিত। সাইবার জগৎ ক্রমাগত বর্ধিত ও বিকশিত হচ্ছে এবং জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।

সাইবার অপরাধ

সমাজ ও আইনবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ডই অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়। তবে যেসব অপরাধ অনলাইন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে হয়ে থাকে সেগুলোকে সাইবার অপরাধ বলে। সাইবার অপরাধ সংঘটনে কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইন্টারনেট অবশ্যই ব্যবহৃত হয় আবার কখনো কখনো ডিভাইস বা নেটওয়ার্ক নিজেই সাইবার আক্রমণের শিকার হয়। সাইবার অপরাধীরা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে আমাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলতে পারে। তাই সাইবার অপরাধ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক ঝুঁকি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার উপায় সম্পর্কে জানা আমাদের সকলের জন্য অতীব জরুরি। ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ রয়েছে, যার মাধ্যমে তথ্যের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। নিচে কিছু সাইবার অপরাধ উল্লেখ করা হলো।

  • হ্যাকিং (Hacking)
  • ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক (Brute Force Attack)
  • ডেটা ইন্টারসেপশন (Data Interception)
  • ডি ডস অ্যাটাক (DDos Attack)
  • কম্পিউটার ম্যালওয়্যার (Computer Malware)

হ্যাকিং (Hacking)

সাধারণত অনুমতি ব্যতীত কোনো ওয়েবসাইট বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে তা ব্যবহার করা অথবা তার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়াকে হ্যাকিং বলে। যে হ্যাকিং করে তাকে হ্যাকার (Hacker) বলে। হ্যাকিং বৈধ ও অবৈধ হতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের সিস্টেমের সিকিউরিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হ্যাকার নিয়োগ করেন। এই নিয়োগ প্রাপ্ত হ্যাকারদের কাজকে বৈধ হ্যাকিং বলে। এরা সিস্টেম সিকিউরিটি চেক করে। তবে সিস্টেমের কোন ক্ষতি করে না। এদেরকে হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার বলা হয়। অবৈধভাবে যারা হ্যাকিং করে তাদেরকে ক্রেকার (Craker)ও বলে। অবৈধ হ্যাকার বা ক্রেকাররা ইন্টারনেট ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ডেটা চুরি অথবা নষ্ট করে দেয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সফটওয়্যার সিস্টেমের দুর্বলতা খুব সহজে খুঁজে বের করে পাসওয়ার্ড জেনে ফেলে। ফলে সহজেই ক্ষতি সাধন করতে পারে। এদেরকে ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার বলে।

ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক (Brute Force Attack)

ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধীরা মানুষের বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট যেমন- ব্যাংক, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল অ্যাকাউন্ট, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইসেও অবৈধভাবে প্রবেশ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে এবং এ গুলো নিয়ে একের পর এক অনুমান নির্ভর চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে তারা সফলও হয় এবং সফল হলে তারা এ ব্যক্তির বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে। ঐ চুরি করা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে থাকে। এই ধরনের সাইবার আক্রমণ ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক (Brute Force Attack) নামে পরিচিত।

ডেটা ইন্টারসেপশন (Data Interception)

ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদানের সময় প্রাপক এবং প্রেরকের মধ্যবর্তী কেউ তা আড়ি পেতে চুরি করতে পারে। এই চুরি হবার প্রক্রিয়াটি ডেটা ইন্টারসেপশন নামে পরিচিত।

সাধারণত সফটওয়্যার বা অ্যাপস-এ এন্ড টু এন্ড ডেটা এনক্রিপশন করা থাকলে, মধ্যবর্তী কারও পক্ষে তথ্য (ম্যাসেজ, ছবি, ভিডিয়ো, ভয়েস কল রেকর্ড, ডকুমেন্ট ইত্যাদি) চুরি করা অসম্ভব হয়ে যায়। অ্যানক্রিপশন (Encryption) হলো মেসেজ, ডেটা বা তথ্যকে এনকোড করার এমন একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যা অনুমোদনহীন কেউ পড়তে বা বুঝতে পারে না। এর ফলে অনুমোদনহীনদের কাছে মেসেজ, ডেটা বা তথ্য দুর্বোধ্য হয়ে থাকে। নেটওয়ার্কের পাবলিক পথ দ্বারা যে সকল গোপনীয় ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাদেরকে সাধারণত বিশেষ কোডের মাধ্যমে এনক্রিপ্ট করে প্রেরণ করা হয়। অর্থাৎ ডেটার গোপনীয়তা রক্ষা বা সিকিউরিটির জন্য ডেটাকে এনক্রিপ্ট করা হয়।

ডি ডস আক্রমণ (DDoS-Distributed Denial of Service)

ডিজিটাল জগতে ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অফ সার্ভিস বা ডি ডস আক্রমণ হলো একই সময়ে একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট টার্গেটে আক্রমণ করা।

DDoS আক্রমণে একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইস কোনো ওয়েবসাইট বা অনলাইন সেবাকে প্রচুর পরিমাণে ট্র্যাফিকের সাথে প্লাবিত করতে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে এটি ধীরগতির হয়ে যায় বা ক্রাশ (crash) হয়ে যায়। এর উদ্দেশ্য হলো সিস্টেমটিকে মোহাবিষ্ট করা যাতে প্রকৃত ব্যবহারকারীরা এটি অ্যাক্সেস বা ব্যবহার করতে না পারে।

ম্যালওয়‍্যার (malware)

ম্যালওয়্যার (malware) হলো ইংরেজি Malicious Software এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মোবাইল, কম্পিউটার, সার্ভার, ওয়েবসাইট অথবা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষতি করার জন্য ডিজাইন ও উন্নয়ন করা হয়েছে এমন সফটওয়‍্যারকে ম্যালওয়্যার বলে।

এই সফটওয়‍্যার মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহারকারীর স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে যদি কোনো সফটওয়্যার তার অক্ষমতার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কম্পিউটার সিস্টেমে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে সেক্ষেত্রে তাকে ম্যালওয়্যার বলা চলে না; একে সফটওয়্যার বাগ (Bug) বলা হয়। ম্যালওয়্যার এমন এক জাতীয় ক্ষতিকর সফটওয়্যার যা কম্পিউটার, মোবাইল ব্য অন্য কোনো ডিজিটাল সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করতে, গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে, কোনো সংরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে বা অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন দেখাতে ব্যবহার করা হয়। ম্যালওয়্যার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যথা- কম্পিউটার ভাইরাস (computer viruses), ওয়ার্ম (worms), ট্রোজান হর্স (trojan horses), স্পাইওয়্যার (spyware), র‍্যানসামওয়্যার (ransomware), অ্যাডওয়্যার (adware), রুটকিটস্ (rootkits) ও স্প্যামিং (spamming) ইত্যাদি।

কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস

ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করলে সাধারণত সংখ্যা বৃদ্ধি হতে থাকে ও বিভিন্ন। উপাত্তকে আক্রমণ করে এবং এক পর্যায়ে কম্পিউটারকে অচল করে দেয়। ভাইর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আজকাল বিনামূল্যে ইন্টারনেট থেকে এন্টিজ! সফটওয়‍্যার ডাউনলোড এবং ইনস্টল করে আইসিটি যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা অনেক নিশ্চিত করা যায়।

সাইবার বুলিং (Cyber bullying)

অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃত ও বার বার কাউকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা যেমন অপমানজনক বার্তা পাঠানো, গুজব ছড়ানো, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা বা কাউকে সামাজিক মাধ্যমে হেয় করাকে সাইবার বুলিং বলে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কোনো কিছু করতে বাধ্য করাকে সাইবার সন্ত্রাস বলা হয়।

সাইবার সন্ত্রাসের জন্য মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাবলেট ইত্যাদি যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েবসাইট, ম্যাসেজ, ই-মেইল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। ই-মেইলে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিব্রতকর ছবি, ভিডিয়ো, আপত্তিকর বা অপমানজনক মন্তব্য দ্বারা ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয় এবং ব্যক্তিগত জীবনকে বিপর্যন্ত করা হয়। সাধারণত শিশু এবং কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে সাইবার বুলিং বেশি ঘটে থাকে।

ফেইক নিউজ

সংবাদ হিসেবে উপস্থাপিত কোনো মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যা মানুষকে প্রতারিত করা বা মানুষের মতামতকে প্রভাবিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাই-ই ফেইক নিউজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অত্যধিক ব্যবহারের এই যুগে, ফেইক নিউজের বিস্তার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রচারিত ফেইক নিউজের ফলে পৃথিবীব্যাপী অনেক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংঘাতের জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশে তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬ মোতাবেক সাইবার বুলিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফেইক নিউজ ছড়ানোর জন্য অপরাধীর সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অথবা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

সাইবার আক্রমণের শিকার হলে করনীয়

১। যত দ্রুত সম্ভব ন্যাশনাল হেল্পলাইন ১০৯, ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ অথবা আইসিটি হেল্পলাইন-এ যোগাযোগ করা।

২। প্রযুক্তিতে দক্ষ কারোর সাহায্য নেওয়া ।

৩। প্রমাণক সহ www.rab.gov.bd ওয়েবসাইটে অভিযোগ দেওয়া।

৪। পিতা-মাতা বা পরিবারের সদস্যদের সাথে শেয়ার করা।

৫। ডিজিটাল ডিভাইস বন্ধ করে রাখা।

৬। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)-বরাবর লিখিত অভিযোগ জানানো।

৭। বিষয়টি অপরিচিত কারো সাথে বা উন্মুক্তভাবে সবার সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা।

৮। নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করা যেতে পারে ।

৯। ভোক্তা অধিকারের চর্চা করতে হবে।

১০। অপরাধের প্রমাণগুলো সংগ্রহ করতে হবে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে নিরাপত্তা কৌশল

ইন্টারনেট নিরাপত্তা বলতে বুঝায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় ডেটা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সাইবার আক্রমণ, ভাইরাস ও অন্য ধরনের ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই ব্যবস্থাগুলো বিভিন্ন প্রকার হতে পারে, যেমন- এনক্রিপশন, পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, ফায়ারওয়াল ব্যবহার ইত্যাদি। নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এবং অনলাইন হুমকি থেকে ব্যক্তিগত তথ্য এবং ডিভাইসমূহকে রক্ষা করার জন্য কিছু নিরাপত্তা কৌশল জানা আবশ্যক।

টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA)

টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন- এর অর্থ হচ্ছে যখন আমরা আমাদের ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করি তখন একটি OTP (One Time Password, যা ৬ ডিজিটের হয়ে থাকে) আমাদের ফোনে বা মেইলে আসে। সেই OTP সঠিকভাবে দিলেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারি, অন্যথায় নয়। OTP সীমিত সময়ের জন্য পাঠানো হয়। একবার ব্যবহার করার পরে OTP এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে একই OTP আর ব্যবহার করা যায় না। টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু থাকলে সাইবার অপরাধীর পক্ষে কোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা বেশ কঠিন হয়ে যায়।

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। বিভিন্ন প্রয়োজনে এবং বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকি। তবে খুবই সতর্ক থাকতে হবে যে, আমরা কোন কোন ব্যক্তিগত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করব এবং কোনগুলো করব না। হ্যাকাররা আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডকৃত বিভিন্ন কনটেন্ট এর সূত্র ধরে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে প্রতারণার করে আমাদের অর্থসম্পদ হাতিয়ে নিতে পারে।

সাধারণ ট্রাবলশুটিং

ট্রাবল শুটিং হচ্ছে সমস্যার উৎস বা উৎপত্তিস্থল নির্ণয়ের প্রক্রিয়া। মূলত ট্রাবলশুটিং হচ্ছে এমন কিছু যা, একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে করতে হয়। অন্য যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের তুলনায় কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রের ট্রাবল শুটিং একটু বেশিই প্রয়োজন হয়। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে এ যন্ত্রগুলো আমরা অনেক বেশি সময় ধরে ব্যবহার করি। তাই আইসিটির ব্যবহারকারীদের অবশ্যই সাধারণ ট্রাবল শুটি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

পাইরেসি

পাইরেসি হলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া তার সৃষ্টকর্মের অবৈধ কপি তৈরি বা তা ব্যবহার করা। এটি সাধারণত কপিরাইট লঙ্ঘনের মাধ্যমে ঘটে। সফটওয়‍্যার, মিউজিক, সিনেমা, বই বা অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্টের ক্ষেত্রে পাইরেসি দেখা যায়। এটি কপিরাইট আইন অনুযায়ী একটি দন্ডনীয় অপরাধ।

কম্পিউটার গেম ও সামাজিক যোগাযোগ সাইটে  আসক্তি থেকে মুক্তি

কম্পিউটার গেমে ও’সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আসক্তি হতে যুক্ত হতে চাইলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী কী তার একটি তালিকা করতে হবে। সেই তালিকার সমস্যাগুলোর কোনো কোনোটি কম্পিউটার গেমের ও সামাজিক সাইটের কারণে হয়েছে সেটাও নিজেকে বোঝাতে হবে। তারপর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ লেখাপড়া, হোমওয়ার্ক, মাঠে খেলাধুলা, Extra Curricular Activities, পরিবারের সাথে সময় কাটানো, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সবকিছুর জন্যে সময় ভাগ করে রাখতে হবে। ধীরে ধীরে কম্পিউটার গেমে ও সামাজিক সাইটে সময় কমিয়ে এনে নিজেদের অন্যান্য সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দাবলির সংক্ষিপ্ত রূপ বা অ্যাব্রিভিয়েশন

BIOS  -Basic Input Output System

BSA – Business Software Alliance

CMOS – Complementary Metal-Oxide Semiconductor

CPU – Central Processing Unit

IAD – Internet Addiction Disorder

IC – Integrated Circuit

RAM – Random Access Memory

VIRUS -Vital Information Resources Under Siege

নবম দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

১. টেম্পোরারি ফাইল বেশি হলে কী ঘটে?

ক. কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়

কম্পিউটারের গতি বেড়ে যায়

গ. এন্টিভাইরাস কাজ করে না

ঘ. ইন্টারনেটে প্রবেশ করা যায় না

উত্তর:

২. সিডি, ডিভিডি বা পেন ড্রাইভ থেকে সফটওয়‍্যার ইনস্টল করতে গেলে কোন প্রোগ্রামটি প্রথমে চালু হয়?

ক. Setup

খ. Autorun

গ. Read me

ঘ. Restart

উত্তর: খ

৩. কোনটি আধুনিক পৃথিবীর সম্পদ?

ক. তথ্য

খ. উপাত্ত

গ. কম্পিউটার

ঘ. ইন্টারনেট

উত্তর:  ক

৪. সফটওয়‍্যার ইনস্টল করতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে-

1. হার্ডওয়্যার সেটিকে সাপোর্ট করে কিনা

ii. এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি বন্ধ করা হয়েছে কি না।

iii. এডমিনিস্ট্রেটরের অনুমতি আছে কি না

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর:  ঘ

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৫ ও ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

ইকরাম সাহেব দেখছেন কয়েকদিন ধরে তার কম্পিউটার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার চালু হয়। তিনি আরও লক্ষ করলেন কম্পিউটারটির কাজের গতিও কমে গেছে। তাঁর মনে পড়লো বন্ধুর পেনড্রাইভ থেকে তিনি একটি গান নিজ কম্পিউটারে নিয়েছিলেন এবং এটা করার পর থেকে এমনটা হচ্ছে।

৫. কম্পিউটারের এ অবস্থার জন্য কোনটি দায়ী?

ক. অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার

খ. ভাইরাস সফটওয়্যার

গ. ইউটিলিটি সফটওয়্যার

ঘ. এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার

উত্তর: খ

৬. এর ফলে ইকরাম সাহেবের কম্পিউটারে-

i. অপ্রত্যাশিত কোনো বার্তা প্রদর্শন করতে পারে

ii. রাখা ফাইলগুলোর আকার বেড়ে যেতে পারে

ii. মেমোরি কম দেখাতে পারে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও ii

উত্তর: গ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Math Captcha
+ 48 = 50